YouTube

Got a YouTube account?

New: enable viewer-created translations and captions on your YouTube channel!

Bengali subtitles

← মানব মস্তিষ্কের বিশেষ অভিনবত্বের পেছনে রহস্যটা কী?

Get Embed Code
42 Languages

Subtitles translated from English Showing Revision 21 created 01/05/2014 by Palash Ranjan Sanyal.

  1. মানব মস্তিষ্কের বিশেষ অভিনবত্ব কোথায়?
  2. আমরা অন্যান্য প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করে থাকি
  3. অথচ তারা আমাদেরকে নিয়ে গবেষণা করতে অক্ষম, কিভাবে এরকম হল?
  4. মানব মস্তিষ্কে এমন কী আছে যা অন্যদের নেই?
  5. এমন কী করতে পারে যা অন্য প্রানীদের মস্তিষ্ক পারে না?
  6. দশ বছর আগে আমি যখন এই প্রশ্ন গুলোর ব্যাপারে আগ্রহী হই,
  7. সে সময়ে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন যে ভিন্ন ভিন্ন মস্তিষ্ক কি ভাবে গঠিত তা তাঁরা জানেন।
  8. পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ হাতে না থাকার পরেও
  9. অনেক বিজ্ঞানীরা মনে করতেন যে, মানুষ সহ
  10. সকল স্তন্যপায়ী প্রানীর মস্তিষ্ক
  11. একই রকম ভাবে গঠিত,
  12. কোনো মস্তিষ্কের ভিতরে মোট নিউরনের সংখ্যা
  13. সব সময়েই সেই মস্তিষ্কের আকারের সমানুপাতিক।
  14. তার মানে হল, সমান আকারের দুটি মস্তিষ্কে,
  15. যেমন, সমীহ জাগানো ৪০০ গ্রাম ওজনের এই দুটি
  16. মস্তিষ্কে সমান সংখ্যক নিউরন থাকবে।
  17. এখন, নিউরন যদি মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরন
  18. কর্মকাণ্ড সম্পাদনের একক হয়,
  19. তাহলে এই দুটি মস্তিষ্কের অধিকারী দুজনের একই রকম
  20. বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা থাকার কথা।
  21. কিন্তু আসলে, এদের একজন একটি শিম্পাঞ্জী
  22. আর অন্যজন একটি গরু মাত্র।
  23. হতেও পারে যে, গরু সম্প্রদায়ের একটি সু-উন্নত
  24. আভ্যন্তরীণ মনোজগৎ রয়েছে এবং তাঁরা এতটাই বুদ্ধিমান
  25. যে তাঁরা ইচ্ছা করেই আমাদেরকে তা বুঝতে দেন না,
  26. কিন্তু আমরা তাঁদের মাংস খাই।
  27. আমি মনে করি, বেশীরভাগ মানুষই এটা মানবেন
  28. যে, শিম্পাঞ্জীরা গরুর চেয়ে অনেক বেশী জটিল,
  29. বিশদ ও সহজে পরিবর্তন যোগ্য আচরণ করতে সক্ষম।
  30. তাই, প্রাথমিক ভাবে এটি এই ইঙ্গিত দেয় যে,
  31. "সব মস্তিষ্ক একই ভাবে গঠিত" - কথাটি
  32. পুরোপুরি সঠিক নয়।
  33. তারপরেও আগানো যাক।

  34. সব মস্তিষ্ক যদি একই ভাবে গঠিত হয়
  35. এবং আমরা যদি ভিন্ন ভিন্ন আকারের মস্তিষ্ক বিশিষ্ট প্রাণীদের মধ্য তুলনা করি,
  36. বড় আকারের মস্তিষ্কে সব সময় ছোট মস্তিষ্কের
  37. চেয়ে বেশি নিউরন থাকবে, এবং যার
  38. মস্তিষ্ক যত বড়, সে তত বেশি বুদ্ধিমান হবে।
  39. অর্থাৎ কিনা, প্রাণী জগতে যার মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড়,
  40. সেই সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান।
  41. এবং, এখানেই যত বিপত্তি -
  42. আকারের দিক থেকে আমাদের মস্তিষ্ক প্রাণীকুলে সবচেয়ে বড় নয়!
  43. এ তো দেখছি ভালো ফ্যাসাদ!
  44. আমাদের মস্তিষ্কের ওজন ১.২ থেকে ১.৫ কিলোগ্রামের মধ্যে,
  45. এদিকে হাতীদের মস্তিষ্কের ওজন চার থেকে পাঁচ কিলোগ্রামের মধ্যে,
  46. আর একটি তিমির মস্তিষ্কের ওজন নয় কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে,
  47. আর তাই বিজ্ঞানীরা এরকম একটি আপ্ত-বাক্যের শরণ নিয়ে বলতেন -
  48. "অবশ্যই আমাদের মস্তিষ্কে অসাধারণ কিছু আছে" -
  49. এতে যদি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার কোনো ব্যাখ্যা মেলে।
  50. বাস্তবিক পক্ষেই এটি অনন্য সাধারণ কিছু হবে,
  51. গতানুগতিক নিয়মের একেবারেই ব্যতিক্রম!
  52. তাদেরটা আকারে বড় হতে পারে, কিন্তু আমাদেরটা বেশি উন্নত,
  53. এবং এটা আরও বেশি উন্নত হতে পারত, যেমন,
  54. যত বড় হওয়ার কথা, তার চেয়ে এটি বেশ বড়,
  55. আমাদের সেরেব্রাল কর্টেক্সটিও এই মাপের হওয়ার কথা না,
  56. যদি আমাদের দেহের আকার বিবেচনা করি।
  57. ফলে আমরা খানিকটা বাড়তি কর্টেক্স পাচ্ছি যা দিয়ে
  58. শরীর পরিচালনা করার পাশাপাশি বাড়তি কিছু মজাদার কাজও করা সম্ভব।
  59. এটা এজন্যে যে, মস্তিষ্কের আকার
  60. সাধারণত দেহের আকারের সাথে সঙ্গতি রেখে চলে।
  61. অর্থাৎ, প্রধানত যে কারণে আমরা বলছি যে -
  62. আমাদের মস্তিষ্ক এত বড় হওয়ার কথা না -
  63. সেই কারণটি আমরা আসলে পেয়েছি আমাদের সাথে
  64. অতিকায় বানরদের তুলনার মাধ্যমে।
  65. গরিলারা আমাদের চেয়ে আকারে দুই থেকে তিন গুন বড় হতে পারে,
  66. অতএব তাদের মস্তিষ্কের আকারও আমাদেরটার চেয়ে বড় হবার কথা,
  67. কিন্তু বাস্তবে এটি সম্পুর্ন উল্টো!
  68. গরিলার চেয়ে আমাদের মস্তিষ্ক তিন গুন বড়।
  69. মানব মস্তিষ্ককে আবারও অসাধারণ মনে হবে যদি

  70. এর এনার্জি ব্যবহারের পরিমাণ বিবেচনা করা হয়।
  71. যদিও ওজনের দিক দিয়ে এটি আমাদের দেহের মাত্র ২ শতাংশ,
  72. কিন্তু শুধুমাত্র মস্তিষ্কের পেছনেই আমাদের শরীরের
  73. দৈনিক এনার্জি চাহিদার ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়।
  74. তার মানে, মোট ২,০০০ ক্যালরির মধ্য থেকে ৫০০ ক্যালরিই ব্যয় হয়
  75. শুধুমাত্র মস্তিষ্ককে সচল রাখতে।
  76. তো, যত বড় হবার কথা তার চেয়ে মানব মস্তিষ্ক ঢের বড়,

  77. যা উচিত ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি এনার্জি ব্যবহার করে,
  78. অতএব এটি অসাধারণ।
  79. আর গল্পের এখান থেকেই আমার অস্বস্তির সূত্রপাত।
  80. জীববিদ্যায় আমরা সে সব নিয়ম খোঁজার চেস্টা করি
  81. যা সকল প্রাণী এবং মোটা দাগে সব জীবের ক্ষেত্রে প্রজোয্য,
  82. তাহলে বিবর্তনের এই নিয়ম গুলো কেন
  83. অন্যদের বেলায় খাটলেও আমাদের ক্ষেত্রে খাটেনা?
  84. হয়ত এই মূল ধ্যান ধারনাটিতেই কিছু গলদ আছে -
  85. যে, সকল মস্তিষ্ক একই ভাবে গঠিত।
  86. হতেও পারে যে, একই আকারের দুটি মস্তিষ্ক
  87. সম্পুর্ন ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক নিউরন দিয়ে গঠিত।
  88. হয়ত একটি সুবিশাল মস্তিষ্কের
  89. মোট নিউরনের সংখ্যা অন্য একটি
  90. মাঝারি আকারের মস্তিষ্কের চেয়েও কম।
  91. হয়ত প্রানীকুলে মানব মস্তিষ্কেই সবচেয়ে বেশি নিউরন থাকে,
  92. তা সে যে আয়তনেরই হোক না কেন,
  93. বিশেষ করে, সেরেব্রাল কর্টেক্স এ।
  94. তাই আমার কাছে এখন এটাই
  95. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে -
  96. মানব মস্তিষ্কে কি পরিমাণ নিউরন আছে?
  97. অন্যান্য প্রানীদের তুলনায় সংখ্যাটা কি রকম?
  98. এখন, আপনারা হয়ত শুনেছেন বা পড়েছেন যে,

  99. আমাদের মগজে ১০০ বিলিয়ন নিউরন রয়েছে,
  100. তাই দশ বছর আগে সহকর্মীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম
  101. কেউ জানেন কি এই সংখ্যার হিসাবটা কিভাবে এলো?
  102. কিন্তু কেউ ই জানতেন না।
  103. আমি নিজেও অনেক বই-পত্র ঘেঁটে চলেছি,
  104. এই সংখ্যাটির আদি সূত্রের সন্ধানে,
  105. কিন্তু কখনও পাইনি।
  106. মনে হচ্ছে আসলে কেউ কখনও গণনাই করেন নি যে,
  107. কতগুলি নিউরন আছে মানব মস্তিষ্কে,
  108. কিংবা অন্য প্রানীদের মস্তিষ্কে?
  109. তাই মস্তিষ্কে কোষের সংখ্যা গণনা করার জন্য আমার একটি নিজস্ব পদ্ধতি বের করেছি,

  110. আর এটা মূলত তৈরি হয়েছে
  111. মগজকে তরলে দ্রবীভূত করার উপরে ভিত্তি করে।
  112. এটা এভাবে কাজ করে -
  113. একটি মস্তিষ্ক বা তার কিছুটা অংশ নিন,
  114. এবার সেটাকে ডিটারজেন্ট এ দ্রবীভূত করুন,
  115. এর ফলে কোষ প্রাচীরগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে
  116. কিন্তু নিউক্লিয়াস গুলো ঠিকই আস্ত থেকে যাবে
  117. ফলে আপনি একটি মুক্ত নিউক্লিয়াস এর ঘন দ্রবন পাবেন
  118. ঠিক এরকম দেখতে,
  119. যেন একটি পরিষ্কার স্যুপ।
  120. এই স্যুপের ভিতরে সেই সব নিউক্লিয়াস আছে
  121. যে গুলো একদা একটি ইঁদুরের মস্তিষ্কে ছিল।
  122. এখন, মজার ব্যাপার হল, যেহেতু এটি স্যুপে পরিণত হয়েছে,
  123. আপনি এটাকে ঝাঁকিয়ে নিউক্লিয়াসগুলোকে
  124. এই তরলের মাঝে সুষমভাবে ছড়িয়ে দিতে পারবেন,
  125. এর ফলে এখন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে
  126. এই সুষম মিশ্রণ থেকে কেবল মাত্র চার পাঁচটি নমুনা পর্যবেক্ষণ করলেই
  127. আপনি নিউক্লিয়াসগুলোকে গুনতে পারবেন, আর বলতে পারবেন
  128. ওই মগজটিতে কতগুলি কোষ ছিল।
  129. এটি সহজ, এটি সোজা-সাপ্টা
  130. এবং সত্যিই খুব কম সময় নেয়।
  131. তো এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে আমরা নিউরন গুনেছি,
  132. এ পর্যন্ত কয়েক ডজন বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর,
  133. এবং আমরা জেনেছি
  134. যে, সকল মস্তিষ্ক একইভাবে গঠিত নয়!
  135. ইঁদুর গোত্র এবং বানর গোত্রের কথা ভাবি,
  136. ইঁদুরদের বেলায়, বড় আয়তনের মাথার নিউরনগুলিও
  137. গড় আয়তনে বড় হয়,
  138. ফলে বেশ দ্রুত হারে তাদের মস্তিষ্ক স্ফীত হয়ে
  139. আয়তনে বড় হয় কিন্তু সেই গতিতে নিউরনের সংখ্যা বাড়ে না।
  140. কিন্তু বানর গোত্রের মস্তিষ্কে নিউরন সংখ্যায় বাড়ে,
  141. এক একটি নিউরনের গড় আয়তন তেমন একটা বাড়ে না,
  142. এটা খুবই সাশ্রয়ী পদ্ধতি -
  143. মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য।
  144. ফলশ্রুতিতে একটি বানরের মগজে
  145. সর্বদা সম আয়তনের একটি ইঁদুরের মগজের চেয়ে বেশী নিউরন থাকবে,
  146. এবং মস্তিষ্কের আয়তন যত বড় হবে,
  147. এই পার্থক্যও তত বেশী হবে।
  148. বেশ, তাহলে আমাদের মস্তিষ্কের ব্যাপারটা কি?
  149. আমরা দেখেছি, আমাদের আছে, গড়ে
  150. ৮৬ বিলিয়ন নিউরন,
  151. এদের ১৬ বিলিয়ন আছে সেরেব্রাল কর্টেক্সে,
  152. আর আপনি ধরে নিতে পারেন যে, সেরেব্রাল কর্টেক্স
  153. বিশেষ কিছু কর্মকাণ্ডের হোতা, যেমন
  154. সচেতনতা এবং যুক্তিসম্মত ও বিমূর্ত যুক্তি চর্চা,
  155. এবং এই ১৬ বিলিয়ন হচ্ছে নিউরনের সর্বোচ্চ সংখ্যা
  156. যা কোনও কর্টেক্স ধারণ করতে পারে,
  157. আমি মনে করি এটাই সহজতমভাবে ব্যাখ্যা করে
  158. আমাদের এই নজরকাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে।
  159. কিন্তু একই সাথে এই ৮৬ বিলিয়ন নিউরন থাকাটাও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
  160. যেহেতু দেখা যাচ্ছে যে মস্তিষ্কের আয়তন
  161. এবং নিউরনের সংখ্যার মধ্যেকার সম্পর্কটাকে
  162. গানিতিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব,
  163. আমরা মানব মস্তিষ্ক নিয়ে হিসাব কষে বলতে পারি
  164. ইঁদুর গোত্রের জন্য এমন একটি মস্তিষ্কের আকার কেমন হবে।
  165. হুম, একটি ইঁদুর গোত্রের মগজে ৮৬ বিলিয়ন নিউরন থাকতে হলে
  166. এটির ওজন হবে ৩৬ কিলোগ্রাম!
  167. এটি সম্ভব নয়।
  168. এমন বিশাল ওজনের একটি মস্তিষ্ক বিধ্বস্ত হয়ে যাবে
  169. তার নিজের ওজনের চাপে,
  170. এবং এই অসম্ভব মগজটি ধারণ করতে
  171. ৮৯ টন ওজনের একটি দেহ লাগবে।
  172. এটি দেখতে আদৌ আমাদের মত মনে হচ্ছে না।
  173. ফলে ইতিমধ্যেই আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ উপসংহারে পৌঁছেছি,

  174. আর তা হল - আমরা ইঁদুর গোত্রীয় নই।
  175. মানব মস্তিষ্ক একটি বড় আয়তনের ইঁদুর মস্তিষ্ক নয়।
  176. দেখতে পাচ্ছি, ইদুরের তুলনায় আমরা বেশ অসাধারণ, হ্যাঁ,
  177. তবে তুলনাটা খুব একটা যথাযথ নয়,
  178. যখন আমরা জানি যে আমরা ইঁদুর গোত্রীয় নই।
  179. আমরা প্রাইমেট বর্গের,
  180. তাই কেবল অন্য প্রাইমেটদের সাথে তুলনা করলেই সেটা যথাযথ হবে।
  181. এবং হিসাব করলে,
  182. দেখবেন যে, প্রাইমেট বর্গের কোনো প্রা্ণীর
  183. ৮৬ বিলিয়ন নিউরন থাকতে হলে
  184. তার মগজের ওজন হবে প্রায় ১.২ কিলোগ্রাম,
  185. এটা মনে হয় ঠিকই আছে,
  186. ৬৬ কিলোগ্রাম ওজনের একটি দেহে,
  187. যেটা আমার ক্ষেত্রে পুরোদস্তুর সঠিক,
  188. এতে করে আমরা পাই খুবই প্রত্যাশিত
  189. এবং সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তঃ
  190. আমি একটি প্রাইমেট!
  191. এবং আপনারা সবাই প্রাইমেট!
  192. এবং ডারউইনও তাই ছিলেন।

  193. আমার ভাবতেই ভালো লাগে যে, ডারউইন হয়তো ব্যাপারটাকে সত্যিই তারিফ করতেন।
  194. তাঁর মস্তিষ্ক, আমাদেরগুলোর মতই,
  195. অন্যান্য প্রাইমেটদের মস্তিষ্কের আদলে তৈরি হয়েছিল।
  196. তাই, মানব মস্তিষ্ক হয়তো একটি চমকপ্রদ জিনিস, হ্যাঁ,

  197. এটি অসাধারণ, কিন্তু তা নিউরনের সংখ্যার কারণে নয়।
  198. এটা নেহায়েতই একটি বড় প্রাইমেট মস্তিষ্ক।
  199. আমি মনে করি এটি একটি বিনীত ও সংযত প্রত্যাশা হবে যে,
  200. এটি প্রকৃতিতে আমাদের অবস্থানটা মনে করিয়ে দেবে।
  201. তাহলে এটা এত বেশী শক্তি খায় কেন?

  202. বেশ, অন্যরা এটা দেখিয়েছেন যে,
  203. কি পরিমা্ণ শক্তি ব্যবহৃত হয়
  204. মানব এবং অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর মস্তিষ্কে,
  205. এবং এখন জেনেছি কি পরিমাণ নিউরন
  206. নিয়ে এক একটি মস্তিষ্ক গঠিত, হিসাবটা জানি।
  207. এবং এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মানুষ
  208. ও অন্যান্য মস্তিষ্ক প্রায় একই পরিমাণ শক্তি টানে,
  209. যা কিনা প্রতি বিলিয়ন নিউরনের জন্য প্রতিদিন ৬ ক্যালরি করে।
  210. অর্থাৎ মস্তিষ্কের মোট এনার্জি চাহিদার পরিমাণ
  211. একটি মামুলী সরল রাশি যা কিনা
  212. তার নিউরনের সংখ্যার উপর নির্ভরশীল,
  213. এবং দেখা যাচ্ছে যে মানব মস্তিষ্ক ঠিক
  214. সেই পরিমা্ণ শক্তি ব্যবহার করে যেরকমটি আমরা অনুমান করি।
  215. তাই কি কারণে মানব মস্তিষ্ক
  216. এত বেশী শক্তি ব্যবহার করে তা খুবই সোজা -
  217. এখানে বিশাল সংখ্যক নিউরন আছে।
  218. এবং যেহেতু আমরা প্রাইমেট বর্গের
  219. এবং দেহের মাপের তুলনায় নিউরনের সংখ্যা অনেক বেশী
  220. অন্যান্য বর্গের প্রাণীদের চেয়ে,
  221. তাই তাদের তুলনায় আমাদের মস্তিষ্কের শক্তির চাহিদাও বিশাল,
  222. কিন্তু এমনটি হয়েছে শুধুমাত্র আমরা প্রাইমেট বলে, আমরা অসাধারণ বলে নয়।
  223. তাহলে, শেষ প্রশ্নঃ

  224. কিভাবে আমাদের নিউরনের সংখ্যা এমন অস্বাভাবিক রকম বেশী হল?
  225. এবং বিশেষ করে গ্রেট এপস (গরিলা, ইত্যাদি) যখন
  226. আমাদের চেয়ে আকারে বড় দেহের,
  227. তাদের কেন আমাদের চেয়ে বেশী নিউরন বিশিষ্ট বড় আকারের মস্তিষ্ক নেই?
  228. যখন বুঝতে পেরেছিলাম যে এটা কতটা ব্যয় বহুল
  229. যখন মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমা্ণ নিউরন থাকে, তখন বুঝলাম,
  230. এর হয়ত কোনো সরল ব্যাখ্যা আছে।
  231. প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দেয়া অসম্ভব
  232. যদি দেহ এবং নিউরন সংখ্যা দুটোই অনেক বড় হয়।
  233. তাই অঙ্ক কষলাম।
  234. হিসাবের একপাশে লিখলাম
  235. একটি প্রাইমেট প্রতিদিন কি পরিমান এনার্জি পায়
  236. কাঁচা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে,
  237. আর অন্য পাশে লিখলাম, কি পরিমান এনার্জি
  238. একটি নির্দিষ্ট আকারের দেহে ব্যবহৃত হয়
  239. এবং একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক নিউরন বিশিষ্ট মস্তিষ্ক দ্বারা কি পরিমান এনার্জি ব্যবহৃত হয়,
  240. এবং সেই কম্বিনেশনটি খুঁজলাম
  241. দেহের আকার এবং নিউরনের সংখ্যার,
  242. যা একটি প্রাইমেট এর উপযুক্ত
  243. যদি সে খাবারের পেছনে দিনে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘণ্টা ব্যয় করত।
  244. এবং আমরা যা পেয়েছি তা হল,

  245. যেহেতু নিউরনগুলি অনেক বেশী শক্তি টানে,
  246. তাই দেহের আয়তন এবং দেহস্থ নিউরনের সংখ্যার মাঝে একটি ভারসাম্য রয়েছে।
  247. তাই যে প্রাইমেটটি প্রতিদিন আট ঘণ্টা ধরে খাবার খায়
  248. তার মস্তিষ্কে সর্বোচ্চ ৫৩ বিলিয়ন নিউরন থাকা সম্ভব,
  249. এবং সেক্ষেত্রে তাঁর দেহের ওজন হবে
  250. অনুর্ধ ২৫ কিলোগ্রাম।
  251. এর চেয়ে বেশী ওজনের দেহ হলে
  252. নিউরনের সংখ্যা কমতে হবে।
  253. অর্থাৎ, হয় দেহের আয়তন বড় হবে
  254. না হয় নিউরনের সংখ্যা বেশী হবে,
  255. প্রাইমেটদের মত করে খাবার খেলে
  256. দুটো একসাথে পাওয়া যাবে না।
  257. এই শারীরবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা কাটানোর একটা উপায় আছে,

  258. তা হল, খাদ্য খাওয়ার পিছনে প্রতিদিন আরও অধিক সময় ব্যয় করা,
  259. কিন্তু এতে বিপত্তি দেখা দিতে পারে,
  260. এবং একটি নির্দিষ্ট সীমার পরে এটি রীতিমত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
  261. উদাহরণস্বরূপ, একটি গরিলা বা ওরাংওটাং এর দেহে
  262. ৩০ বিলিয়ন নিউরন থাকা সম্ভব,
  263. খাদ্য খাওয়ার পিছনে দিনে আট ঘণ্টা করে সময় ব্যয় করলে,
  264. এবং তারা খুব বেশী হলে এ পর্যন্তই যেতে পারে।
  265. প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা ধরে খাওয়াটা
  266. মনে হচ্ছে প্রাইমেটদের জন্য বাস্তব সম্মত সীমা।
  267. আমাদের বেলায় ব্যপারটা কি রকম?

  268. আমাদের আছে ৮৬ বিলিয়ন নিউরন
  269. আর ৬০ থেকে ৭০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি দেহ,
  270. হিসাব অনুযায়ী আমাদের দরকার ছিল ৯ ঘণ্টা
  271. ধরে প্রতিদিন খাদ্য খাওয়া,
  272. যা কিনা একেবারেই অবাস্তব।
  273. আমরা যদি প্রাইমেটদের মত করে খেতাম
  274. তাহলে আমরা এরকম হতে পারতাম না।
  275. তাহলে কিভাবে আমরা এরকম হলাম?

  276. বেশ, আমাদের মস্তিষ্ক যদি সে পরিমান এনার্জি ব্যয় করে,
  277. যে পরিমান করা উচিত, এবং আমরা পারিনা
  278. প্রতিদিনের জেগে থাকা প্রতিটা মুহূর্ত খাবারের পেছনে ব্যয় করতে,
  279. সেক্ষেত্রে, একমাত্র সত্যিকারের বিকল্প
  280. হল, কোনো উপায়ে বেশী পরিমান এনার্জি আহরন করা
  281. একই পরিমান খাবার থেকে।
  282. এবং মজার ব্যাপার হল, এটা পুরোপুরি মিলে যায়
  283. যা আমাদের পূর্বপুরুষেরা আবিস্কার করেছিলেন বলে জানি
  284. দেড় মিলিয়ন বছর আগে,
  285. যখন তাঁরা রান্না করার পদ্ধতি আবিস্কার করেছিলেন।
  286. রান্না করা মানেই আগুন ব্যবহার করে
  287. শরীরে ঢোকানোর আগেই খাবারটাকে অনেকখানি হজম করে নেয়া।
  288. রান্না করা খাবার অনেক নরম, তাই সহজে চিবানো যায়
  289. এবং সহজেই মুখের ভিতরে সম্পূর্ণ পিষে ফেলা যায়,
  290. ফলে খাবারটি পুরোপুরি হজম করা সম্ভব হয়
  291. এবং দেহের মধ্যে শোষিত হয়।
  292. যা কিনা অনেক কম সময়ে খাদ্য থেকে অনেক বেশী এনার্জি দেয়।
  293. অর্থাৎ, রান্না করার ফলে আমরা কিছু বাড়তি সময় হাতে পাই
  294. যা দিয়ে প্রতিদিন আমরা আকর্ষণীয় কিছু করতে পারি,
  295. আমাদের নিউরন ব্যবহার করে,
  296. অন্য কিছু - খাবার নিয়ে চিন্তার বদলে,
  297. খাবার খোঁজা এবং গলধকরন করার বদলে,
  298. সারাদিন ধরে।
  299. তাই রান্না করার ফলে, যা এক সময়ে ছিল

  300. একটি বিশাল বোঝা, এই বিশাল,
  301. অত্যাধিক নিউরন সমৃদ্ধ বিপদজনক রকম খরুচে মস্তিষ্কটি
  302. এখন হয়ে গেছে এক প্রধান সম্পদ,
  303. এখন আমরা যেমন ব্যাপক সংখ্যক নিউরনের জন্য এনার্জির বন্দোবস্ত করতে সক্ষম, তেমনি পাশাপাশি
  304. তাদের দিয়ে নানান কৌতূহলোদ্দীপক কাজ করিয়ে নিতে পারি।
  305. তাই আমার মতে এটাই ব্যাখ্যা করে, কেন মানব মস্তিষ্ক
  306. বিবর্তনের এক পর্যায়ে এত দ্রুত এতটা বড় হয়ে গেছে,
  307. যেখানে বাকী সময়টা সে নেহায়েৎ একটি প্রাইমেট মস্তিষ্ক ছিল।
  308. রান্নার বদৌলতে এহেন বিশাল মস্তিষ্ক থাকার সুবাদে
  309. আমরা অতিদ্রুত কাঁচা খাবার থেকে পৌঁছে গেছি সংস্কৃতিতে,
  310. কৃষিকাজে, সভ্যতায়, মুদি খানায়,
  311. বিদ্যুতে, রেফ্রিজারেটরে।
  312. এসব কিছুর সহায়তায় আজকাল
  313. আমরা প্রয়োজনীয় সবটুকু এনার্জি পেয়ে যাই
  314. যা সারাদিন চলার জন্য যথেষ্ট, মাত্র একবার বসলেই -
  315. আপনার প্রিয় ফাস্ট ফুড জয়েন্ট এ।
  316. আর তাই, যা একসময় সমাধান হিসাবে এসেছিল
  317. তা এখন সমস্যাতে পরিণত হয়েছে,
  318. এবং এমনই পরিহাস! আমরা সেই কাঁচা খাবারের মাঝেই সমাধান খুঁজেছি।
  319. তো মানুষ হওয়ার কি ফায়দা?

  320. আমাদের এমন কী আছে
  321. যা অন্য কোনও প্রানীর নেই?
  322. আমার উত্তর - আমাদের আছে সর্বোচ্চ সংখ্যক
  323. সেরেব্রাল কর্টেক্স এর মধ্যেকার নিউরন,
  324. আর আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে সহজভাবে
  325. আমাদের এই নজরকাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতাকে ব্যাখ্যা করে।
  326. এবং আমরা এমন কী করি যা অন্য কোনও প্রানী করতে পারে না,
  327. এবং যাকে আমি সেই মূল কারণ বলে বিশ্বাস করি
  328. যা আমাদেরকে দিয়েছে এই বিশাল,
  329. সর্বোচ্চ সংখ্যক নিউরন বিশিষ্ট একটি কর্টেক্স?
  330. মাত্র দু'টি শব্দে, আমরা রাঁধি।
  331. অন্য কোনও প্রানী খাবার রাঁধে না। শুধুমাত্র মানুষেরা করে।
  332. এবং আমি মনে করি, এভাবেই আমরা মানুষ হয়েছি।
  333. মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা খাদ্যের প্রতি আমার চিন্তা ভাবনা পাল্টে দিয়েছে।

  334. এখন আমি আমার রান্না ঘরের দিকে তাকাই
  335. আর প্রণাম করি,
  336. আর পূর্বপুরুষদেরকে ধন্যবাদ জানাই
  337. এটা উদ্ভাবনের জন্য, যা আমাদের মানুষ বানিয়েছে।
  338. আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।
  339. (করতালি)